জুনের আগে সব পাঠ্যবই পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা

admin
  • আপডেট টাইম : নভেম্বর ০৪ ২০২২, ২০:০৫
  • 544 বার পঠিত
জুনের আগে সব পাঠ্যবই পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক \ উৎসবমুখর পরিবেশে নতুন বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দেয়ার যে রীতি তৈরি হয়েছে, সেটা আগামীতেও অব্যাহত রাখতে চায় সরকার। সে লক্ষ্যে ডিসেম্বরের মধ্যেই বই মুদ্রণ কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।
অন্যদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে কাগজের দাম বেড়ে যাওয়া, সরবরাহে ঘাটতি এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে ডিসেম্বরের মধ্যে
পাঠ্যবই মুদ্রণের কর্মযজ্ঞ শেষ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন মুদ্রণকারীরা।
মুদ্রণ ব্যবসায়ী মনে করছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ বই ছাপানো সম্ভব হবে। আর অবশিষ্ট বই পেতে অপেক্ষায় থাকতে হবে অন্তত আরও ছয় মাস। মুদ্রণ শিল্প-সংশ্লিষ্টদের এসব যুক্তিকে আমলে নিতে চান না জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। তাদের কথা, এটা অজুহাত। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মুদ্রণকারীদের পাঠ্যবই সরবরাহ করতে হবে। নইলে করোনাভাইরাসে শিখন ঘাটতির পর আরও একবার শিক্ষা খাত ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
আগামী বছরের জন্য প্রায় ৩৪ কোটি ৬১ লাখ ৬৩ হাজার পাঠ্যবই ছাপানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক থেকে প্রাথমিক স্তরের ৯ কোটি ৯ লাখ ৫৩ হাজার এবং মাধ্যমিক স্তরের জন্য ২৪ কোটি ৬৩ লাখ ১০ হাজার পাঠ্যবই ছাপানো হবে।
মুদ্রণ শিল্প সমিতি বলছে, কাগজের সংকট তো আছেই, বেড়েছে কালির দাম। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এলসি করতে না পারায় কাগজ তৈরির মÐ (পাল্প) আমদানি করতে পারছেন না মিল মালিকরা। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি (২৯ অক্টোবর) এক অনুষ্ঠানে প্রাসঙ্গিক কারণে সংকটের কথা তুলে ধরলে সেখানে উপস্থিত শিক্ষামন্ত্রী তার জবাব দেন। তিনি জানিয়েছেন, পাঠ্যবই মুদ্রণ ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করতে হবে।
‘মন্ত্রী মহোদয়ের আল্টিমেটাম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে শতভাগ বই দেয়া সম্ভব হবে না। বড়জোর ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ বই সরবরাহ করা যাবে ডিসেম্বরের মধ্যে। বাকি বই পুরোপুরি সরবরাহ করতে জুন পর্যন্ত সময় লাগবে।’

0Shares
এই ক্যাটাগরীর আরো খবর