বিয়ানীবাজার পৌর নির্বাচন কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বসে নেই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা

  • আপডেট টাইম : মে ১০ ২০২২, ১৭:৫৯
  • 16 বার পঠিত
বিয়ানীবাজার পৌর নির্বাচন কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বসে নেই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা

মিসবাহ উদ্দিন, বিয়ানীবাজার :
আগামী ১৫ই জুন বিয়ানীবাজার পৌরসভার দ্বিতীয় নির্বাচন।কে হচ্ছেন পরবর্তী পৌর মেয়র এ নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা, জন্ম দিচ্ছে নানা আলোচনা সমালোচনার। পৌর নির্বাচনকে ঘিরে উপজেলার রাজনীতি ও সামাজিক অঙ্গন সরব হয়ে উঠেছে। দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হলে বিদ্রোহী প্রার্থী তালিকা দীর্ঘ হতে পারেন- এমন আভাস রাজনৈতিক মহলে।
বিশেষ করে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে ইতিমধ্যে হাইকমান্ডে লবিং শুরু করে দিয়েছেন অনেকে, নৌকার মাঝি হতে মাঠে মরিয়া বর্তমান মেয়র আব্দুস শুকুর, বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ফারুকুল হক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল হাসিব মনিয়া, বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এবং উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক আব্দুল কুদ্দুছ টিটু। জাতীয় চার নেতা পরিষদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক,মুক্তিযোদ্ধা সন্তান অজি উদ্দিন, পৌরসভা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহবাব হোসেন সাজু ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পাবেল মাহমুদ, আওয়ামীলীগ নেতা শিহাব উদ্দিন, আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছে

এদিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন পৌরসভার টানা ১৬ বছরের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করা সাবেক বিয়ানীবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. তফজ্জুল হোসেন। গত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন তিনি। এবারো নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। এছাড়া বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও বিয়ানীবাজার পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে (২০১৭) বিএনপি’র ধানের শীষ মনোনীত প্রার্থী আবু নাসের পিন্টু ও জামায়াতে ইসলামীর কাজী জমির হোসাইন ও সমাজকর্মী প্রভাষক আব্দুস সামাদ ও সিপিবি নেতা এড.আবুল কাশেম রয়েছেন মাঠে। উল্লেখযোগ্য
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে নারী-পুরুষ মিলে ভোটার ২৯ থেকে ৩০ হাজারের কাছাকাছি। তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৭ মে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ। বাছাই ১৯ মে এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন ২৬ মে। প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ২৭ মে। এই পৌরসভা নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হবে।
ইতোমধ্যে মেয়র পদে প্রার্থী নির্ধারণে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় কার্যক্রম শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড গত ৫ মে থেকে ১১ মে পর্যন্ত দলের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

এদিকে প্রার্থী যেই হোক না কেন সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া নিয়ে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন সাধারণ ভোটাররা। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অবাধ এবং সুষ্ঠু ভোট হলে পৌরসভায় আওয়ামীলীগ প্রার্থীকে বিএনপি প্রার্থীর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। শহরে সাংগঠনিকভাবে বিএনপির দূর্বলতা থাকলেও মাঠপর্যায়ে ভোটের হিসেবে তাদের সমর্থন একেবারে কম নয়। এখানে আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি উভয়েরই প্রার্থী নির্বাচন সঠিক না হলে নিজেদের জন্য নিজেরাই আত্মঘাতী হয়ে উঠতে পারে এমন আশঙ্কাও রয়েছে।
তবে চমক দেখাতে পারেন সিপিবি নেতা এড.আবুল কাশেম

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ শাসনামলে বিয়ানীবাজার পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু সীমানা সংক্রান্ত মামলার কারণে প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর পর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল। ওইদিন শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পর ৮ ওয়ার্ডে ফলাফল ঘোষণা করা হলেও কসবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মৃদু সংঘর্ষ ও জাল ভোটের অভিযোগ উঠায় নির্বাচন কমিশন ঐ কেন্দ্রে ভোট গণনা বন্ধ রাখে। পরবর্তীতে স্থগিত ৩ নং ওয়ার্ডে ৮ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সবমিলিয়ে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের মো: আব্দুস শুক্কুর পান ৫ হাজার ৮২ ভোট। পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ১ হাজার ১৯০ ভোট বেশী পেয়ে পৌরসভার প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী ধানের শীষের আবু নাসের পিন্টু পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৮৯২ ভোট ও তফজ্জুল হোসেন পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৪৬২ ভোট।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর