উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা

  • আপডেট টাইম : জানুয়ারি ১৮ ২০২২, ০১:৪৯
  • 99 বার পঠিত
উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা

পুলিশের বেধড়ক লাঠিপেটা, রাবার বুলেট, শর্টগানের গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনায় শিক্ষকসহ শতাধিক ছাত্রছাত্রী আহত হওয়ার ঘটনায় এখন নানা দাবীর সাথে যোগ হয়েছে ভিসি পদত্যাগ এবং ক্যাম্পাস ও আবাসিক হল বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার নতুন দুই দফা। এমনসব দাবিতে কালও শাবি ছিলো থমথমে। শিক্ষার্থীরা ঘেরাও করে ভিসি কার্যালয়। তালা ঝুলিয়ে দেয় ভিসি কার্যালয়, প্রশাসনিক ভবন ও প্রত্যেকটি একাডেমিক ভবনে। এর রেশ ছড়িয়ে পড়েছে সিলেটসহ দেশজুড়ে। বিভিন্ন স্থানে হয়েছে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ। আর দাবি আদায় না হওয়া ক্যাম্পাস না ছাড়তে অনড় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সাজোয়া যানসহ ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এদিকে, ছাত্র আন্দোলনে সিলেটবাসীর প্রাণের প্রতিষ্ঠান শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার বেলা সোয়া ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের নিয়ে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের কোনো চিন্তা নেই। এ কারণেই তিনি ক্যাম্পাসে পুলিশ ডেকে এনেছেন এবং সেই পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাঁরা শিক্ষার্থীবান্ধব নতুন উপাচার্য চান।একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের এক দফা এক দাবি- যেই ভিসি আমাদের ওপর হামলা চালাতে পারে, সেই উপাচার্যকে আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখতে চাই না। যতক্ষণ পর্যন্ত উপাচার্য পদত্যাগ না করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমাদের শিক্ষার্থীর ওপর হামলার প্রতিবাদে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তারা বলেন, হল ছেড়ে দেওয়ার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, আমরা তা প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হল ত্যাগ করব না। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। এর আগে সোমবার সকাল ৯টার দিকে বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। এ সময় তাঁরা হল ছাড়বেন না বলে ঘোষণা দেন। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে পুলিশি হামলার ঘটনায় উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন। সকাল সোয়া নয়টার দিকে ওই শিক্ষার্থীরা হলের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ক্যাম্পাসের ভেতরের বিভিন্ন রাস্তায় স্লোগান দিতে থাকে। ধীরে ধীরে ওই মিছিলের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও জড়ো হন। এতে শিক্ষার্থীর স্রোতে রূপ নেয় শাবি ক্যাম্পাস। কয়েকশ’ শিক্ষার্থী গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে স্লোগান দেয়। এক পর্যায়ে তারা ঘেরাও করে ভিসি ভবন। ভিসি তখন ভেতরেই ছিলেন। বেলা দুইটা থেকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু করে। এখানে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষর নেওয়া শুরু করেছেন। বেলা সোয়া দুইটার দিকে শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ তাঁর বাসভবনে ২ জন গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি তখন সব শিক্ষার্থীর সিদ্ধান্ত মেনে হল ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। উপাচার্যের অভিযোগ, অনেক বহিরাগত কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করছেন। আজকের কর্মসূচিতেও অনেক বহিরাগত এসেছেন। একটি চিহ্নিত স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব করছে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা তোমাদের পাশে আছি। তোমরা সহযোগিতা করো। কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত তোমরা নিয়ো না।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর