বিয়ানীবাজারে হামলার ৮ মাস পর যুবকের মৃত্যু, : থানায় জিডি

  • আপডেট টাইম : জানুয়ারি ০৬ ২০২২, ২১:২২
  • 38 বার পঠিত
বিয়ানীবাজারে হামলার ৮ মাস পর যুবকের মৃত্যু, : থানায় জিডি

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ
বিয়ানীবাজারের শেওলায় প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত যুবকের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। হামলায় আহত যুবকের অবস্থা শংকটাপন্ন থাকার পরও সমাজপতিদের আপোষ মীমাংসার উদ্দেশ্য নিয়ে এলাকাজুড়ে নানাকথা আলোচিত হচ্ছে। মুমুর্ষ অবস্থায় শয্যাশায়ী থাকা রোগী সূস্থ হওয়ার আগে তড়িঘড়ি করে গুরুতর ফৌজদারী ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার কারণ জানার চেষ্টা চালাচ্ছে আইনশৃংখলা বাহিনী।

উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের দিঘলবাক গ্রামে গত বছরের ২১ এপ্রিল প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হন ইকবাল হোসেন (২২)। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পরও তিনি শঙ্কামুক্ত ছিলেননা। এমন অবস্থায় স্থানীয় সমাজপতিদের চাপে ঘটনাটি আপোসমীমাংসা করতে বাধ্য হন মামলার বাদী। গত ৪ জানুয়ারী সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন আহত ইকবাল হোসেন। তিনি মৃত নূর উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয়ভাবে জানা যায়, ট্রলিতে করে মালামাল আনানেয়া নিয়ে প্রতিবেশী প্রতিপক্ষের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয় ইকবাল হোসেনের। এর জের ধরে তার উপর হামলা চালানো হয়। এতে মাথায় গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হন তিনি। ঘটনার প্রায় ৮মাস পেরিয়ে গেলেও ঘনঘন বমি করাসহ মাথার আক্রান্ত স্থান সূস্থ হয়নি তার। নিহতের ফুফু লাইলী বেগম জানান, গত ৪ জানুয়ারী আগের মত বমি শুরু করে ইকবাল। তখন তার মাথা ক্ষতস্থানেও সমস্যা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে।

বিষয়টি থানা পুলিশে অবগত করা হলে তারা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরদিন অর্থাৎ ৫ জানুয়ারী তার মরদেহ সমাহিত করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহমুদুল হাসান এরশাদ বলেন, রোগীর অবস্থা মূমুর্ষ থাকার পরও মহলবিশেষের চাপে বিষয়টি সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি করা হয়। তবে পুলিশ তদন্ত শেষে এই মামলায় অভিযোগপত্র দিয়েছে।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিল্লোল রায় জানান, তদন্ত শেষে আমরা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেছি। যা আদালতে বিচারাধীন আছে। সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির কোন বিষয় আমাদের জানা নেই। তিনি বলেন, ভিকটিম ইকবাল নিহতের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। ওই ডায়রী মূলে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে মামলায় হত্যার ধারা (৩০২) সংযুক্ত করা হবে।

এদিকে ইকবালের মৃত্যুর পরই দিঘলবাক গ্রামের জড়াই মিয়ার ছেলে আব্দুর রশুক, মাসুক মিয়া, জসিম উদ্দিন এবং আব্দুল মালিকের ছেলে সেলিম উদ্দিন ও সাহেদ আহমদ পলাতক রয়েছে। নিহতের ফুফু লাইলী বেগমের দায়ের করা সাধারণ ডায়রীতে তাদের নাম বিবাদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর