বিয়ানীবাজারে শিশুরা আসক্ত হচ্ছে স্মার্ট ফোনে, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

  • আপডেট টাইম : নভেম্বর ১৬ ২০২১, ১০:১৭
  • 31 বার পঠিত
বিয়ানীবাজারে শিশুরা আসক্ত হচ্ছে স্মার্ট ফোনে, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

স্টাফ রিপোর্টার:

ঘটনা-১: অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার কারণে মা ধমক দিয়েছিলেন ৮ বছরের শিশু নাইমকে। এই অভিমানে সে ভাত খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। হুজুরের কাছে পড়তেও বসেনি। এরপর দাদী যখন স্মার্টফোন এনে হাতে দেন, সবকিছু আবার ঠিকঠাক হয়ে যায়-এমন মন্তব্য শ্রীধরা গ্রামের এক অভিভাবকের।

ঘটনা-২: বাউরভাগ থেকে ৭ বছরের শিশুকে নিয়ে চক্ষু ডাক্তার দেখাতে এসেছেন মা পারভিন আক্তার। প্রায় চারবছর থেকে তার ছেলে স্মার্টফোন আসক্ত। এখন চোখ দিয়ে পাড়ি পড়ে, ঝাপসা দেখে। ডাক্তার এমন কারণ জিজ্ঞেস করলে মা-ই এসব জানান। এখন পরিস্থিতি উত্তরণে স্মার্টফোন ব্যবহার বন্ধে পরামর্শ দিয়েছেন ডাক্তার। কিন্তু ছেলে সেই পরামর্শ মানেনা। সে সারাক্ষণ ব্যস্ত মোবাইল গেমে।

বর্তমান আধুনিক বিজ্ঞান আর উন্নত প্রযুক্তি আমাদের জীবনযাত্রার মানকে বেশ উন্নত করতে বড় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। আমাদের আর্থ-সামাজিক জীবনে আধুনিক প্রযুক্তির বিকল্প যেন কিছুই নেই। আধুনিক প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে এতই সমৃদ্ধশালী করে তুলেছে যে আমাদের নিত্য নৈমিত্তিক প্রয়োজনীয় তথ্যাদি, যোগাযোগ আর বিনোদনের মাধ্যম হিসাবে এক মিনিটেই হাতের নাগালে পৌঁচ্ছে দিচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে স্মার্ট ফোনে ব্যবহৃত অ্যাপ গুগোল, ফেসবুক, হোয়াটাস্ অ্যাপ, ইমো, ম্যাসেনজার, ভাইবার, যেন কারো সঙ্গে দু’মিনিটেই যোগাযোগ করে দিচ্ছে। এরই সঙ্গে বিনোদনে ভরপুর ইউটিউব সার্চ দিলে কোনো কিছুর অভাবই নেই। তবে সম্প্রতি এই আধুনিক প্রযুক্তির সৃষ্ট ইলেকট্রনিক্স ডিভাইজ স্মার্ট ফোনে আসক্ত হয়ে সম্পূর্ণ মানসিক বিকাশে বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে শিশুরা ফলে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। বাবা-মায়ের ঘুমানো অপেক্ষা বা একটু চোখের আড়াল হলেই নিমেষেই ফোন নিয়ে উধাও।

গৃহিণী লাবণী আক্তার সাথী। বড়দেশ এলাকার বাসিন্দা। স্বামী ব্যবসা করেন। তার ছেলে লাবিব। বয়স মাত্র সাড়ে তিন বছর। একেবারেই খেতে চায় না। খাওয়াতে বসালেই নানা বায়না। তবে হাতে মোবাইল ফোন তুলে দিলে পেট পুরে খেয়ে নেয়। ইউটিউবে গান শুনতে শুনতে, কার্টুন দেখতে দেখতে খায়, ঝটপট খেয়ে নেয়। তিনি নিশ্চিত হন। যাই হোক, বিনা ঝামেলায় বাচ্চারা এখন পেটপুরে খেল। সাথীর মতো এভাবেই বর্তমান সময়ে বাবা-মায়েরা সন্তানকে শান্ত রাখতে বা তাদের দাবি মেটাতে হাতে তুলে দিচ্ছেন স্মার্ট ফোনসহ নানা ধরনের ডিভাইস।

শিশুরা গেম খেলতে পারে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্লান্তি এবং অস্থিরতা সৃষ্টি করে। শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের হাতে স্মার্ট ফোনসহ কোনো ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস দেয়া উচিত নয়। এতে নানা ধরনের রোগের জন্ম হয় শিশুদের শরীরে যা তাদের মানসিক বিকাশে ভারসাম্যহীনতায় ভোগায়। বিয়ানীবাজারের শিশু চিকিৎসক সৈয়দ মর্তুজা আলী বলেন, মোবাইল বাচ্চাদের জন্য মানসিক ও স্বাস্থ্যর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মোবাইলের প্রতি আসক্ত হয়ে বাচ্চারা ধীরে ধীরে পরিবার পরিজন হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

এ ছাড়া রেডিও ম্যাগনেটিভ ইফেক্ট, চোখের ক্ষতি, ব্রেইন পাওয়ার লেস, ব্রেইন ফাংশন ডিসকানেক্ট করে দেয়। স্মার্ট ফোন কেবল শিশুর মানসিক বিকাশে বাধা নয় ববং সামাজিক অটুট বন্ধনে বিচ্ছেদ ঘটাচ্ছে ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয়-এমন কথা জানান চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. আরিফ হাসান।

এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় অবশ্য বলেছেন অপর আরেক চিকিৎসক ডা. শফিকুল ইসলাম। তারমতে, শুধু বাসায় বন্ধি না রেখে শিশুদের বাইরের জগৎ সম্পর্কে জানাতে হবে। লেখাপড়ার ফাঁকে তাদের খেলাধুলায় উৎসাহ দিতে হবে। প্রযুক্তির বাইরের জগৎ সম্পর্কে ধারণা দেয়ার বিকল্প নেই। অভিভাবকদের বেশী করে শিশুসন্তানদের সময় দিতে হবে। তাদের কাছ থেকে স্মার্টফোন যত দূরে রাখা যায় ততই মঙ্গল।

সংবাদটি শেয়ার করুন
এই ক্যাটাগরীর আরো খবর