একটি শ্রেণি আছে যারা উন্নয়ন চোখে দেখে না: প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেট টাইম : অক্টোবর ২৫ ২০২১, ১০:৪০
  • 57 বার পঠিত
একটি শ্রেণি আছে যারা উন্নয়ন চোখে দেখে না: প্রধানমন্ত্রী

দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্তকারীদের সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে
বাসসঃ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশব্যাপী একটি শক্তিশালী যোগাযোগ নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠায় কাজ করে চলেছে। কিন্তু দেশে এমন একশ্রেণি রয়েছে, যারা এই উন্নয়ন চোখে দেখে না। বরং তারা নানা ঘটনার জন্ম দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এদের সম্পর্কে দেশবাসীকে সচেতন হতে হবে। রোববার পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালীতে খরস্রোতা পায়রা নদীর ওপর নির্মিত ‘পায়রা সেতু’র উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সেতুর উদ্বোধন করেন। একই অনুষ্ঠানে ঢাকা-সিলেট ও সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক পৃথক এসএমভিটি লেনসহ ৬ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাবে এবং বাংলাদেশকে আর কেউ পেছনে টানতে পারবে না। এর মাঝেই কিছু কিছু ঘটনা ঘটছে। দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে ইচ্ছাকৃতভাবে এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রচারণাও চালানো হচ্ছে। আমরা যতই উন্নতি করি, ভালো কাজ করি-একটা শ্রেণি আছে যারা বদনাম করতেই ব্যস্ত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে কিছু লোকের একটু কদর বাড়ে। সেজন্য উন্নয়নটা তারা দেখে না। তারা সব সময় ধ্বংসই করতে চায়। এ ব্যাপারে দেশবাসীকে আরও সতর্ক থাকতে হবে।’

ঢাকা-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী এলাকার খরস্রোতা পায়রা নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ হয়েছে। এটি চালু হওয়ায় বরিশাল, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের সঙ্গে পর্যটন নগরী কুয়াকাটা ও পায়রা বন্দর পর্যন্ত সড়কপথ ফেরিবিহীন হয়ে গেছে। অতীতে বরিশাল থেকে মহাসড়ক পথে কুয়াকাটা পৌঁছাতে হলে ৬টি স্থানে ফেরি পার হতে হতো। এর আগে ৫টি সেতুর পর এখন ৬ নম্বরে এই পায়রা সেতু নির্মিত হওয়ায় এ অঞ্চলে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলো। সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। সড়ক পরিবহণ ও সেতু বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম প্রকল্পগুলোর প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস গণভবন থেকে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

প্রকল্পের উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী পটুয়াখালী এবং সিলেট প্রান্তে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত প্রশাসন, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এবং জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ এমপি গণভবন প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পায়রা সেতু বরিশাল এবং পটুয়াখালীর মধ্যে সংযোগ সৃষ্টি করেছে। আর নদীর নামে সেতু হলে নদীটারও একটা পরিচয় পাওয়া যাবে। যে কারণে এই নামটাই আমি পছন্দ করেছি। আর পায়রা শান্তির প্রতীক। কাজেই সেতুটি হওয়ার পর এই অঞ্চলের মানুষের যে আর্থিক উন্নতি হবে তার ফলে মানুষের মনে একটা শান্তি আসবে আর মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ফলে তারা ভালোভাবে বাঁচতে পারবে, সেই সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সরকারপ্রধান বলেন, খাল, বিল, নদীনালার দক্ষিণাঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছে। কাজেই এই অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নতি যত দ্রুত করতে পারব, ততই এখানকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সহায়ক হবে। ফলে এর একটা বিরাট প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়বে এবং দেশটাকে আমরা আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।

তিনি বলেন, আমাদের সরকারের ১ম মেয়াদে সর্বপ্রথম লাউকাঠি নদীতে সেতু নির্মাণ করা হয়। পর্যায়ক্রমে কীর্তনখোলা নদীর ওপর শহিদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতু (দপদপিয়া সেতু), খেপুপাড়ায় আন্ধারমানিক নদীর ওপর শহিদ শেখ কামাল সেতু, হাজীপুরে সোনাতলা নদীর ওপর শহিদ শেখ জামাল সেতু এবং মহিপুরে খাপড়াভাঙ্গা নদীর ওপর শহিদ শেখ রাসেল সেতু নির্মাণ হয়েছে। আর আজ পায়রা নদীর ওপর দৃষ্টিনন্দন পায়রা সেতু নির্মিত হলো। এর ফলে এখানে পর্যটনের সুযোগ যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনই পায়রায় যে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করছে, সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগও সৃষ্টি হবে। আর সমগ্র বাংলাদেশেও একটা যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরি হয়ে যাবে।

দেশের যতটুকু উন্নয়ন, সেটা আওয়ামী লীগ সরকারই করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে যোগাযোগের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য ’৯৬ সালে দায়িত্ব গ্রহণ করেই আওয়ামী লীগ সরকার ‘ধরলা সেতু’ নির্মাণ করে। যমুনা নদীর ওপর রেল যোগাযোগসহ বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ই করা। দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের খণ্ডচিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বরিশাল বিভাগে কেবল সুন্দর রাস্তাই আমরা করিনি, এখানে আমাদের ক্যান্টনমেন্ট নির্মাণ হয়েছে (লেবুখালী), একটি নৌঘাঁটি ও বিমানঘাঁটি হচ্ছে। সেই সঙ্গে কোস্টগার্ডের প্রশিক্ষণের জন্য কোস্টগার্ড ঘাঁটিও এখানেই করা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে, গলাচিপায় বীজ গবেষণা কেন্দ্র করা হয়েছে এবং পায়রা বন্দর করা হয়েছে। এভাবেই পুরো বরিশাল নিয়েই একটি বড় কর্মযজ্ঞ চলছে। এদিন ২০৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এবং সিলেট থেকে তামাবিল পর্যন্ত আরও ৫৬ কিলোমিটার মহাসড়ককে ৬-লেনে উন্নীতকরণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

সূত্র জানায়, ঢাকা-সিলেট-তামাবিল জাতীয় মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক করিডর। এ সড়কটি রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে বৃহত্তর সিলেট বিভাগের সড়ক যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর ও পর্যটনসমৃদ্ধ সিলেটের বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অবস্থিত তামাবিল একটি প্রসিদ্ধ স্থলবন্দর। এ মহাসড়ককে কেন্দ্র করে কয়েকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করতে এ মহাসড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর