বাধ্যতামূলক টিকা গ্রহণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ

  • আপডেট টাইম : অক্টোবর ১৩ ২০২১, ০২:৫৪
  • 38 বার পঠিত
বাধ্যতামূলক টিকা গ্রহণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ

‘হয় টিকা গ্রহণ করো, নয়তো চাকরি হারাও’—যুক্তরাষ্ট্রে চাকরিজীবীদের জন্য এমন কঠোর নীতি চালু করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে জো বাইডেনের প্রশাসন। স্বাস্থ্যকর্মী ও শিক্ষকদের টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক করতে নির্দেশ জারি করবেন বলেও জানিয়েছেন বাইডেন। তবে এত কঠোরতার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অনেকের মধ্যে টিকা গ্রহণে অনাগ্রহ দেখা গেছে। বিক্ষোভ করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। এমনকি টিকার বাধ্যবাধকতা এড়াতে প্রয়োজনে চাকরি ছেড়ে দিতেও রাজি আছেন কেউ কেউ। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের টিকা গ্রহণে অনীহার কারণ অনুসন্ধান করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন পেশার মানুষের কাছে টিকা গ্রহণে অনীহার কারণ জানতে চেয়েছে বিবিসি। বাধ্যতামূলক টিকা গ্রহণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের কনকর্ড এলাকায় হাসপাতালের পোশাক পরে বিক্ষোভে যোগ দেন কিছুসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মীও। বিক্ষোভকারীদের একজন নার্স লিয়াহ কুশমান। বিবিসিকে তিনি জানান, চাকরি হারাতে প্রস্তুত আছেন, কিন্তু টিকা নিতে রাজি নন। কুশমান বলেন, ‘আমি ধর্মবিশ্বাসী। আমি বিশ্বাস করি, আমার সৃষ্টিকর্তা আমাকে এমন রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, যা আমাকে সুরক্ষা দেবে। ঈশ্বরের ইচ্ছাতেই আমি অসুস্থ হই। আমার প্রতিরোধব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে—এমন ওষুধ আমি গ্রহণ করব না।’ নিজের এই বিশ্বাস কর্মক্ষেত্রের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করবে বলে তিনি মনে করেন না। কুশমান তাঁর অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে বলেন, কোভিডের টিকাগুলো ‘পরীক্ষামূলক’ অবস্থাতেই থেকে গেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে ফাইজারের টিকায় খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) পুরো অনুমোদন আছে। এর মানে হলো ফাইজারের টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। তার পরও কুশমান কোনোভাবেই কোনো টিকা নিতে রাজি নন।

বিক্ষোভরত নার্সদের অনেকে মনে করছেন, টিকা নিয়ে অনেক হাসপাতাল রাজনৈতিক খেলা খেলছে। তাঁদের মতে, টিকা নিলে যদি সত্যিই রোগীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে, তাহলে টিকার বদলে সাপ্তাহিকভাবে করোনা পরীক্ষার নিয়ম চালু করা যেতে পারে। তবে অনেক আমেরিকান আবার নিয়মিত করোনাও পরীক্ষা করাতে চান না। টিকা গ্রহণের বাধ্যবাধকতাকে কেন্দ্র করে কানেটিকাটের ওয়ালিংফোর্ডে সদ্যই চাকরি হারিয়েছেন স্কুলশিক্ষক কাহসেইম আউটলো। গত বছরই স্কুলে তিনি বর্ষসেরা শিক্ষকের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। তবে টিকা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করে অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশিকা মানতে রাজি হননি তিনি। কাহসেইম বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য, সম্পূরক কিংবা খাদ্য হিসেবে যা–ই বলেন না কেন, আমি আমার জীবনে কোনো দিন সিনথেটিক উপকরণ ব্যবহার করিনি। টিকা গ্রহণের এ নিয়ম আমার জীবনযাপন পদ্ধতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।’ অঙ্গরাজ্যের অন্য শিক্ষকদের মতো কাহসেইম আউটলোকে বলা হয়েছিল, টিকা গ্রহণ না করলে তাঁকে প্রতি সপ্তাহে করোনা পরীক্ষা করাতে হবে। তবে এই পদ্ধতিকে অস্বস্তিকর বলে মনে করেন তিনি। কাহসেইম বলেন, ‘আত্মার সঙ্গে যখন আমাদের কথোপকথন হয়, তখন এটি আমাদের বলে, কোনটি ঠিক আর কোনটি ঠিক নয়। আর আমার আত্মা আমাকে বলছে, আমি যে সিদ্ধান্ত নেব, তা যেন এখনই নিয়ে নিই।’ তবে কাহসেইম অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করাতে রাজি আছেন। তাঁর বিশ্বাস, তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তাঁর শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিকভাবে প্রতিরোধব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। কত দিন এই প্রাকৃতিক প্রতিরোধব্যবস্থা কার্যকর থাকবে, সে ব্যাপারে কোনো নিশ্চয়তা নেই বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। তবে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করানোর এই প্রস্তাবে সায় দেয়নি তাঁর নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর