অভিন্ন মানবজাতি’ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে, সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সবার জন্য আবারওএক সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে তুলতে হবে- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ২৫ ২০২১, ০১:৪১
  • 64 বার পঠিত
অভিন্ন মানবজাতি’ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে, সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সবার জন্য আবারওএক সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে তুলতে হবে- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন, জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কোভিড-১৯ পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, করোনামুক্ত বিশ্ব গড়ে তুলতে মেধাস্বত্ত্ব ছাড়সহ সাশ্রয়ী মূল্যে টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩০) প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে ছয়দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন।

শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আগের বছরগুলোর মতোই বাংলা ভাষায় তাঁর ভাষণ দেন। এটি বাংলা ভাষায় দেয়া প্রধানমন্ত্রীর ১৮তম ভাষণ। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘে প্রথম বাংলায় ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রীর ১৮তম ভাষণে অগ্রাধিকার পাওয়া অন্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে টেকসই উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা ও অসমতা দূরীকরণ।

শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় মালদ্বীপের আব্দুল শহিদকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বছরটি আমাদের জন্য একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বছর। এ বছর আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি। একইসঙ্গে আমরা আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘‌মুজিববর্ষ’ উদযাপন করছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু এমন একটি বিশ্ব গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন যেখানে অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামাজিক অবিচার, আগ্রাসন ও পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি থাকবে না। ৪৭ বছর আগের তাঁর সে আহ্বান আজও সমভাবে প্রযোজ্য। এ জন্য আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের যে কোনো উদ্যোগে সমর্থন ও নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছি। করোনাভাইরাসের টিকার ন্যায্য হিস্যা দাবি, ফিলিস্তিনিদের প্রতি যেকোনো ধরনের অবিচারের বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় অবস্থান, রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা- এসব আমাদের বৈশ্বিক অঙ্গীকারের কতিপয় উদাহরণ মাত্র।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সাধারণ পরিষদের এই অধিবেশনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন কোভিড-১৯ বিশ্বজুড়ে অব্যাহতভাবে মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। করোনার নতুন ধরনের মাধ্যমে অনেক দেশ বার বার সংক্রমিত হচ্ছে। এ মহামারিতে গোটা বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বহুপাক্ষিকতাবাদ ও জাতিসংঘ ব্যবস্থার দৃঢ় সমর্থক হিসেবে বাংলাদেশ এই সঙ্কটকালে জাতিসংঘকে আশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে দেখে। সব ধরনের মতভেদ ভুলে গিয়ে আমাদের অবশ্যই ‘অভিন্ন মানবজাতি’ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে; সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সবার জন্য আবারও এক সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে তুলতে হবে।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর