সিটি কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট-৩৯ থেকে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে ‘র‌্যাঙ্কড চয়েজ ভোটে জয়ের পথে রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শাহানা হানিফ

  • আপডেট টাইম : জুন ২৪ ২০২১, ০৩:১৭
  • 117 বার পঠিত
সিটি কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট-৩৯ থেকে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে ‘র‌্যাঙ্কড চয়েজ ভোটে জয়ের পথে রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শাহানা হানিফ

নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট-৩৯ থেকে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে ‘র‌্যাঙ্কড চয়েজ ভোটে জয়ের পথে রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শাহানা হানিফ। অন্যদিকে, নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স সিভিল কোর্টের বিচারক পদে প্রাইমারিতে এগিয়ে রয়েছেন বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাটর্নি সোমা সাঈদ।

বড় কোনো ‘অঘটন’ না ঘটলে শাহানা হানিফই হবেন প্রথম বাংলাদেশি, যিনি ডেমোক্রেটিক শহর নিউইয়র্কের সিটি কাউন্সিলে জায়গা করে নেবেন। ফলে আগামী ২ নভেম্বর সাধারণ বা চূড়ান্ত নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিসাবে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সে নির্বাচনে শাহানা হানিফের বিজয় হবে আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। কারণ প্রাইমারিতে জিতলে নিউইয়র্ক সিটির সাধারণ নির্বাচনে জয় নিয়ে সংশয়ের আর কোনা কারণ থাকে না।

এদিকে প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ের অনেকটা দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন অ্যাটর্নি সোমা সাঈদ। তিনি নির্বাচিত হলেও শুধু নিউইয়র্কে নয়, গোটা আমেরিকায় ইতিহাস গড়বেন। সোমা সাঈদ হবেন নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স সিভিল কোর্টের প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিচারক।

২২ জুন মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটির প্রাইমারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ১২ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত চলে আগাম ও মেইল ভোট। এ নির্বাচনে সিটির ৫টি বরোর মধ্যে তিনটি বরো থেকে ১৩জন বাংলাদেশি আমেরিকান বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এরমধ্যে ৬টি কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট থেকে ১১জন, কাউন্টি বিচারক পদে একজন এবং ফিমেল ডিস্ট্রিক্ট লিডার পদে আরো একজন অংশ নেন। তবে মঙ্গলবার রাত ৯টার পর ফল গণনায় দেখা যায়, একমাত্র শাহানা হানিফ এগিয়ে রয়েছেন। রাত ১২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ডিস্ট্রিক্ট ৩৯-এ সরাসরি ভোটে (ইন-পারসন) ৯৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটের ৩২ দশমিক ৭২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন শাহানা হানিফ। তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ৯ হাজার ৭০৫ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রেনডন ওয়েস্ট পেয়েছেন ২২ শতাংশ, অর্থাৎ ৬ হাজার ৬৮৩ ভোট। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে ভোটের ব্যবধান প্রায় তিন হাজার। এই ডিস্ট্রিক্টে আরেক বাংলাদেশি প্রার্থী মামনুন হক পেয়েছেন এক হাজার ২১৩ ভোট।

বিজয়ী একজন প্রার্থীকে শতকরা ৫১ শতাংশ ভোট পেতে হবে। এই ভোট পেলে ‘র‌্যাঙ্কড চয়েজ’ ভোট পদ্ধতি খুবই সোজা হিসাবের। কিন্তু ৫১ শতাংশ না পেলে ‘র‌্যাঙ্কড চয়েজ’ ভোটের সমীকরণ খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। কারণ যেসব প্রার্থী কম ভোট পেয়েছেন তাদের ভোট ভাগাভাগি হবে।

অন্যদিকে কুইন্স সিভিল কোর্টের বিচারক পদে অ্যাটর্নি সোমা সাঈদের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী মাইকেল গোল্ডম্যান। রাত ১২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভোট ভোটের ৯০ দশমিক ১৯ শতাংশ ভোট গোনা হয়েছে। এরমধ্যে সোমা পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৫৬৬ ভোট। অর্থাৎ তিনি মোট ভোটের ৫০ দশমিক ৯২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী গোল্ডম্যান পেয়েছেন ৬৩ হাজার ২৭৩ ভোট, যা মোট ভোটের ৪৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ। অবশিষ্ট ভোটের জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে ২৯ জুন পর্যন্ত।

এ বছর ডেমোক্রেট দলীয় প্রাইমারি নির্বাচনে মেয়র পদে ৯ জনসহ মোট ৫২৯জন প্রার্থী বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অগ্রিম ভোট, মেইল ভোট এবং ভোটের দিন, এই তিন পদ্ধতিতে ভোট প্রদানের নিয়ম রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির ৫ বরোর ৫১টি ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের মধ্যে বাংলাদেশি প্রার্থী হিসেবে কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট-১৮ থেকে মোহাম্মদ এন. মজুমদার ও মির্জা মামুন রশীদ, কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট-২৪ থেকে মৌমিতা আহমেদ, মোহাম্মদ সাবুল উদ্দিন ও সাইফুর খান হারুন, কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট-২৬ থেকে বদরুন খান মিতা ও সুলতান মারুফ, কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট-৩২ থেকে হেলাল শেখ, কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট-৩৭ থেকে মিসবা আবদীন এবং কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট-৩৯ থেকে শাহানা হানিফ ও মামনুন হক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অন্যদিকে কুইন্স সিভিল কোর্টের বিচারক পদে অ্যাটর্নি সোমা সাঈদ এবং ডিস্ট্রিক্ট লিডার পদে শাহানা মাসুম অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৬১ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে শাহানা হানিফ ও সোমা সাঈদ ছাড়া অন্য কোনো বাংলাদেশি প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা নেই। তবে ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত থাকলে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে বাংলাদেশিদের যাবার সমূহ সম্ভাবনা দিন দিন বাড়ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটির চুড়ান্ত ভোট গ্রহণ হবে চলতি বছরের ২ নভেম্বর, মঙ্গলবার। ২২ জুনের প্রাইমারি নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী নিজ নিজ দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার টিকেট পাবেন।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর