শিশুকে দিয়ে পতিতাবৃত্তির অভিযোগে বিয়ানীবাজারের যুবক জসিম গ্রেফতার

  • আপডেট টাইম : জুন ০৫ ২০২১, ১০:০৭
  • 50 বার পঠিত
শিশুকে দিয়ে পতিতাবৃত্তির অভিযোগে বিয়ানীবাজারের যুবক জসিম গ্রেফতার

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ
সিলেটে শিশুদের দিয়ে পতিতাবৃত্তির ঘটনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই সময় এক শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত বছরের ৩০শে নভেম্বর গোয়াইনঘাটের ওয়ারিস আলীর ১০ বছরের শিশুকন্যা নিখোঁজ হয়েছিল। এরপর তিনি গোয়াইনঘাট থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে গোয়াইনঘাট থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। গত বুধবার একটি ফোন নাম্বার থেকে পিতা ওয়ারিস আলীকে ফোন করে ওই শিশুটি। তাকে উদ্ধারের আকুতি জানায়। এরপর সালুটিকর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের দ্বারস্থ হন ওয়ারিস আলী।

পুলিশ জানায়, নিখোঁজ শিশুটি এক পর্যায়ে কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার লাকসাম গ্রামের হালিমা বেগম নামের এক দেহব্যবসায়ীর খপ্পরে পড়ে। হালিমা বর্তমানে সিলেটের শাহী ঈদগাহ এলাকার অনামিকা-৬২ বাসায় বসবাস করছিল।

ওই শিশুকে দিয়ে দেহব্যবসার এক পর্যায়ে হালিমা বেগম সম্প্রতি তুলে দেয় বিয়ানীবাজারের বারইগ্রামের জসিম উদ্দিনের হাতে। ওই শিশুকন্যাকে নিয়ে সিলেটের উপশহর এলাকার গুলবাহার হোটেলের ৫ম তলার ৫০৫ নম্বর কক্ষে শিশুকন্যাকে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করে জসিম উদ্দিন। ওইদিন কৌশলে শিশুটি তার পিতার মোবাইলে ফোন করে। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে গোয়াইনঘাট থানাধীন সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. শফিকুল ইসলাম খান গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে অভিযান শুরু করে। বিয়ানীবাজার উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় জসিম উদ্দিনকে আটক করেন।
জসিমের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিলেট শহরের উপশহরস্থ গুলবাহার হোটেলের ম্যানেজার জকিগঞ্জ উপজেলার দরিয়াপুর গ্রামের মৃত মদরিছ আলীর ছেলে ওয়াজিদ আলীকে আটক করেন। জসিম উদ্দিন ও ওয়াজেদ আলীকে আটকের পর শিশু কন্যাটিকে না পেয়ে তারা উভয়ের সহযোগিতা নিয়ে দেহব্যবসায়ী হালিমা বেগমকে মোবাইল ফোনে ওই শিশুকন্যাকে ৫ হাজার টাকায় চুক্তি করেন। হালিমা বেগম ৫ হাজার টাকার চুক্তির কথামতো শিশুটিকে নিয়ে হোটেল গুলবাহারে যান। এ সময় পূর্ব থেকে অবস্থানরত পুলিশ হালিমাকে গ্রেপ্তার করে। হালিমার হেফাজত থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবদুল আহাদ জানিয়েছেন, গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের কচুয়ার পার গ্রামের ৯ বছরের একটি শিশু নিখোঁজ হয়েছিল। শিশুটির পিতা প্রথমে গোয়াইনঘাট থানায় জিডি ও পরে লিখিত অভিযোগ করেন। এরই সূত্র ধরে গোয়াইনঘাট থানাধীন সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. শফিকুল ইসলাম খান শিশুটিকে উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করেছে। উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর