আইন বিভাগের ছাত্রী এখন উদ্যোগক্তা স্বপ্নযাত্রার আলোকিত বাহক

  • আপডেট টাইম : এপ্রিল ১৭ ২০২১, ২১:০৫
  • 36 বার পঠিত
আইন বিভাগের ছাত্রী এখন উদ্যোগক্তা স্বপ্নযাত্রার আলোকিত বাহক

মিমটিভি অনলাইন ডেস্ক ঃ ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আবুল পাকির জয়নুল আবেদিন আবদুল কালাম (এ পি জে আবদুল কালাম) তাঁর জীবদ্দশায় এমন কিছু উক্তি করে গিয়েছেন যা মানুষের জন্য আজও আদর্শের, প্রবল অনুপ্রেরণার ও জাগরণের। স্বপ্ন দেখা নিয়ে তার বিখ্যাত উক্তিগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ‘স্বপ্ন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত স্বপ্ন দেখে যাও। স্বপ্ন সেটা নয় যা তুমি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখো, স্বপ্ন হলো সেটাই যা তোমাকে ঘুমোতে দেয় না।’ সত্যিই স্বপ্ন স্বপ্নবাজ মানুষদের ঘুম পাড়িয়ে রাখতে পারে না। প্রকৃত স্বপ্ন মানুষকে ভাবায় নতুন কিছু সৃষ্টিতে আর মানুষকে একসময় প্রবলভাবে ভিজায় সফলতার বৃষ্টিতে’। অন্যদিকে, দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, সাহিত্যিক এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের ভাষ্যমতে, ‘মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়ো।’

প্রকৃতপক্ষে, মানুষ কখনো কখনো হয়তোবা তার স্বপ্নের থেকেও বড়ো। নিজের স্বপ্নের পরিধিকে অতিক্রম করে গেছেন এমন কিছু বিশ্ববরেণ্য মানুষের জীবনী পর্যালোচনা করলেই দেখা যাবে যে, তাঁরা তাঁদের নিজস্ব মেধা, প্রজ্ঞা, যোগ্যতা, মনোবল আর প্রবল স্বপ্নবাজ হবার দরুণ এই ছোট্ট মানবজন্মে তাদের নিজেদের স্বপ্নকেও অতিক্রম করে চিরস্মরণীয়, চির বরণীয় হয়ে ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে যেতে সমর্থ হয়েছেন।

এবার অনেকে ভাবতেই পারেন, স্বপ্ন নিয়ে এতোকিছু বলার পেছনের কারণ কী! হ্যাঁ, স্বপ্নমুখর স্বপ্নবাজ অপ্রতিরোধ্য এক তরুণীর গল্পটা শুরু করতে যাচ্ছি যে এখনই।

২০১৭ সালের নভেম্বরে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ‘ব্রাক ইউনিভার্সিটি’- তে আইন বিভাগে ভর্তি হন সাদিয়া ইসলাম (নীলা) বন্টি । ছেলেবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেকে বারবার প্রমাণ করেছেন তিনি। জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতকে দুমড়ে-মুচড়ে স্বপ্নের পথে অগ্রসর হওয়াই যেন তার জীবনের প্রধান অভিপ্রায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি নিজে স্বপ্ন দেখেন, স্বপ্ন দেখান তরুণ প্রজন্মকে৷ তিনি একাধারে একজন সংগঠক, ভালো আবৃত্তিকার এবং নানান গুণে ও প্রতিভায় প্রতিভাসিত একজন সফল মানবীও বটে। সম্প্রতি, উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ শুরু করেছেন তিনি। তার ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের নাম ‘SAVI’. ‘SAVI’ নামে ফেসবুকে একটি গ্রুপও রয়েছে তার। মাত্র কিছুদিন পূর্বেই নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত করেছেন অপ্রতিরোধ্য স্বপ্নযাত্রার আলোকিত বাহক এই তরুণী। বর্তমানে কাজ করছেন হ্যান্ড পেইন্টেড শাড়ি, কুর্তি, জামা, পাঞ্জাবি, কুশন কভার, অলংকার, জুতা ইত্যাদি নিয়ে।

উদ্যোক্তা হবার প্রসঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত অভিমত প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি ‘টাইমটাচনিউজ ডটকম’কে বলেন, ‘আমি গতানুগতিক ছাঁ-পোষা চাকরিজীবী মানসিকতার পরিবেশেই বেড়ে উঠেছি, যেখানে উদ্যোক্তা হবার চিন্তা করাটাই ভুল। যেহেতু আমি ভালো স্টুডেন্ট, তাই এই সকল বিষয়ে সময় নষ্ট না করে চাকরি খোঁজাটাই শ্রেয় বলে মনে করেন পরিবার পরিজনরা। কিন্তু কমবেশি অধিকাংশ বাংলাদেশি মেয়ের জীবনেই কোনো না কোনো স্বপ্ন থাকে যে, আমার নিজের একদিন কিছু হবে! হয়তো আমিও তার ব্যতিক্রম নই। সবসময়ই মনে হয়েছে চাকরির পাশাপাশি নিজের এমন একটা কিছু থাকবে আমারও। আমার নিজের একটা ভিজিটিং কার্ড থাকবে যেখানে আমার নামের নিচে ‘ওনার’ লেখাটা অন্তত থাকবে। কিন্তু উদ্যোক্তা হয়ে কাজ শুরু করার সাহসটাই করে উঠতে পারছিলাম না। শেষমেশ সাহসটা করেই ফেললাম। আপনারা আমার জন্য দোয়া রাখবেন আর আপনাদের আশেপাশে যারা উদ্যোক্তা হবার স্বপ্ন দেখে তাদেরকে হতাশ না করে একটু সান্ত্বনা দেবেন, অনুপ্রাণিত করবেন। কিছু না দিতে পারেন, তবে অনুপ্রাণিত করে তো তাদের স্বপ্ন দেখাতে এতোটুকুও সহযোগিতা করতে পারবেন।’

পরিশেষে বলা যেতেই পারে, আসলেই মানুষের স্বপ্নের কোনো ব্যাপ্তি বা বিস্তৃতির সীমানা নেই। স্বপ্নকে যেমন কখনো হত্যা করা যায় না, তেমনি আলোর কোনো স্বপ্ন কখনো অন্ধকারে নিমজ্জিতও হতে পারে না। স্বপ্ন মানুষের জীবনের চরম ও পরম ধ্রুব সত্য। স্বপ্ন দেখে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথটুকু নিয়ে ভাবতে ভাবতেই মানুষ বড়ে হয়ে ওঠে আর এভাবেই মানুষ ছাড়িয়ে যায় তার নিজস্বতার মাপকাঠি, তার আপন আলোকের গণ্ডির সীমাটুকুও।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর